বয়স ও উচ্চতার তুলনায় ওজন কম থাকলে অনেকেই হীনমন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন। ওজন না বাড়ার পেছনে থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা হজমের সমস্যা থাকতে পারে।
তবে যদি কোনো বড় শারীরিক সমস্যা না থাকে, তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন এনেই কাঙ্ক্ষিত ওজন পাওয়া সম্ভব। কৃত্রিম কোনো উপায়ের চেয়ে প্রাকৃতিকভাবে সঠিক খাবার খেয়ে ওজন বাড়ানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা সুস্থ ও সবল শরীরের জন্য নির্দিষ্ট কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেন।
ওজন দ্রুত বৃদ্ধিতে ডিমের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় তিন থেকে চারটি সেদ্ধ ডিম রাখা যেতে পারে, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, চর্বি ও ভালো ক্যালরি সরবরাহ করে। অনেকে ভাতের মাড় ফেলে দেন, কিন্তু এটি শক্তি ও ক্যালরির চমৎকার উৎস। ভাতের মাড়ে সামান্য লবণ মিশিয়ে খেলে তা ওজন বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে।
পাশাপাশি আলু কার্বোহাইড্রেট ও কমপ্লেক্স সুগারের বড় উৎস হওয়ায় প্রতিদিনের খাবারে সেদ্ধ আলু বা অলিভ অয়েলে ভাজা আলুর চিপস রাখা অত্যন্ত কার্যকর।
শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটস যেমন কাজুবাদাম, কিশমিশ, খেজুর ও আমণ্ড ক্যালরি এবং পুষ্টিতে ভরপুর। প্রতিদিন সকালে নাস্তার সঙ্গে ১০-১২টি ড্রাই ফ্রুটস খেলে অল্প দিনেই শরীরের পরিবর্তন চোখে পড়বে।
এছাড়া পিনাট বাটার একটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার যা পাউরুটি বা বিস্কুটের সঙ্গে খাওয়া যায়। এটি বড়দের পাশাপাশি শিশুদের ওজন বাড়াতেও বেশ সহায়ক।
মিষ্টিজাতীয় ফল যেমন কলা, আপেল, আঙুর ও নাশপাতি প্রতিদিনের নাস্তায় যোগ করলে তা শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালরির জোগান দেয়।
খাদ্যতালিকায় শুধু শর্করা নয়, বরং পর্যাপ্ত সবজি ও ডাল রাখাও জরুরি। আলু, গাজর ও শিমের মতো সবজি এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বৃদ্ধি পায়।
ভারি খাবারের পাশাপাশি এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো গ্রহণ করলে শরীর দুর্বল হবে না এবং প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের গঠন মজবুত হবে। তাই হতাশ না হয়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ওজন সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
আরটিভি/এএইচ





